ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও মেক্সিকোসহ অন্যান্য দেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য আমদানিতে শুল্ক আরোপ বা বৃদ্ধির হুমকি দিয়ে চলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর পরিপ্রেক্ষিতে গোটা বিশ্ববাজারে অনিশ্চয়তা বেড়েই চলেছে। আপৎকালীন বিনিয়োগ হিসেবে ক্রমেই চাহিদা বাড়ছে স্বর্ণের। এর প্রভাবে গতকাল মূল্যবান ধাতুটির দাম তিন সপ্তাহের সর্বোচ্চে পৌঁছেছে। খবর রয়টার্স।
স্পট মার্কেটে গতকাল স্বর্ণের দাম বেড়েছে দশমিক ৪ শতাংশ। প্রতি আউন্সের মূল্য পৌঁছেছে ৩ হাজার ৩৬৭ ডলার ৫১ সেন্টে। এ সময় যুক্তরাষ্ট্রের ফিউচার মার্কেটে মূল্যবান ধাতুটির দাম দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্সের মূল্য দাঁড়ায় ৩ হাজার ৩৭৯ ডলার ৩০ সেন্টে।
গত শনিবার ট্রাম্প ঘোষণা দেন ১ আগস্ট থেকে ইইউ ও মেক্সিকো থেকে বেশির ভাগ পণ্য আমদানির ওপর ৩০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। ইইউ ও মেক্সিকো এ শুল্ককে অন্যায্য এবং বাজারের জন্য বিঘ্ন সৃষ্টিকারী হিসেবে বর্ণনা করেছে। ইইউ জানিয়েছে, তারা আগস্টের শুরু পর্যন্ত পাল্টা শুল্ক স্থগিত রাখবে এবং আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা চালিয়ে যাবে।
এ বিষয়ে সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বহুজাতিক বিনিয়োগ ব্যাংক ইউবিএসের কমোডিটি অ্যানালিস্ট জিওভান্নি স্টাউনোভো বলেন, ‘ট্রাম্পের শুল্কের হুমকির কারণে আপৎকালীন বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের চাহিদা বাড়ছে।’
এদিকে স্বর্ণের বাজারের বিনিয়োগকারীরা চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তা মূল্য সূচক (সিপিআই) ও উৎপাদন মূল্য সূচক (পিপিআই) তথ্যের দিকে নজর রাখছেন। এসব তথ্য থেকে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের (ফেড) সুদহার বিষয়ক পরিকল্পনার ইঙ্গিত পাওয়া যাবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বর্তমানে বাজারসংশ্লিষ্টরা অক্টোবর থেকে শুরু করে বছরের শেষ নাগাদ ফেড মোট ৫০ বেসিস পয়েন্ট হারে সুদহার কমাতে পারে বলে ধারণা করছেন। প্রসঙ্গত, সুদহার কমে গেলে স্বর্ণের দাম সাধারণত বাড়ে।
অন্যদিকে বিশ্ববাজারে রুপার দাম প্রায় ১৪ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চের কাছাকাছি অবস্থান করছে। গতকাল স্পট মার্কেটে ধাতুটির দাম ১ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্সের মূল্য দাঁড়িয়েছে ৩৯ ডলার ২ সেন্টের বেশি, যা ২০১১ সালের সেপ্টেম্বরের পর সর্বোচ্চ।
স্টাউনোভো এ বিষয়ে বলেন, ‘বিনিয়োগকারীরা দ্রুত মুনাফা লাভের আশায় রুপা ক্রয় বাড়িয়েছে। তাদের এ অতিরিক্ত চাহিদার কারণে ধাতুটির দাম সর্বোচ্চ মূল্য স্তর (যে সীমায় পৌঁছলে দাম আবার কমতে থাকে) অতিক্রম করেছে। এ স্তর অতিক্রম করায় বিনিয়োগকারীদের কাছে রুপার চাহিদা আরো ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। অর্থাৎ বর্তমানে বিশ্ববাজারে ধাতুটির দাম বাড়ার এ গতি বাস্তব চাহিদার কারণে নয় বরং ব্যবসায়ীদের ধারাবাহিক আগ্রহের কারণে ঘটছে।’
এএনজেড জানিয়েছে, রুপার দাম আউন্সপ্রতি ৩৫-৩৭ ডলার অতিক্রম কমলে চাহিদা আরো বাড়বে। ফলে সামনের দিনগুলোয় মূল্যবান ধাতুটির দাম পৌঁছতে পারে আউন্সপ্রতি ৪০ ডলারে।
এদিকে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর মধ্যে স্পট মার্কেটে গতকাল প্লাটিনামের দাম ১ দশমিক ২ শতাংশ কমেছে। প্রতি আউন্সের মূল্য নেমে এসেছে ১ হাজার ৩৮২ ডলার ৭২ সেন্টে। এ সময় প্যালাডিয়ামের দাম ১ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্সের মূল্য দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২৩০ ডলার ৮৭ সেন্টে, যা ২০২৪ সালের অক্টোবরের পর সর্বোচ্চ।